৯ মাসের শিশুর মৃত্যু ঘিরে বিতর্ক: পদ্মা জেনারেল হাসপাতালের বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগ, তদন্ত শুরু
বাংলা গাইড ২৪
প্রকাশিত: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | সর্বশেষ আপডেট: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সরাসরি উত্তর: রাজধানীর পদ্মা জেনারেল হাসপাতালে ৯ মাস বয়সী শিশু আয়ান আব্দুল্লাহর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ উঠেছে। শিশুটির স্বজন আসিফ হাসান রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাতে ফেসবুক লাইভে এসে অভিযোগ করেন—শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে পিআইসিইউতে কোনো চিকিৎসক পাওয়া যায়নি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, শিশুটি হঠাৎ কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক জাহিদ রায়হান সোমবার হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন। প্রাথমিকভাবে জন্মগত ত্রুটি ও শারীরিক জটিলতাকে মৃত্যুর কারণ হিসেবে ধারণা করা হচ্ছে।
📌 প্রাথমিক সূত্র: স্বাস্থ্য অধিদপ্তর (DGHS) — dghs.gov.bd | স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক জাহিদ রায়হানের নেতৃত্বে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে
📝 লেখকের অভিজ্ঞতা: ঢাকার বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুর মৃত্যুর ঘটনা নতুন নয়। ২০২৪ সালেও রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে পিআইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এক শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় অনুরূপ অভিযোগ উঠেছিল। তখনো পরিবারের দাবি ছিল—রাতে চিকিৎসক অনুপস্থিত ছিলেন। এই ঘটনাগুলো আমাদের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার একটি গভীর সংকটের দিকে ইঙ্গিত করে, যেখানে জরুরি অবস্থায় রোগীর পাশে চিকিৎসক না থাকার অভিযোগ বারবার উঠছে।
📋 সূচিপত্র
ঘটনার বিস্তারিত: যা ঘটেছিল
৯ মাস বয়সী শিশু আয়ান আব্দুল্লাহকে গত ১ সেপ্টেম্বর রাজধানীর বীর উত্তম সি আর দত্ত রোডের পদ্মা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, জন্মের পর থেকেই শিশুটি উচ্চ ডায়াবেটিসে ভুগছিল এবং ডায়াবেটিসজনিত জটিলতার কারণে সে ১৩ দিন ধরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটির মৃত্যু হয়। হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. নাজমুল হকের দাবি—রাত ৮টা পর্যন্ত শিশুটি সুস্থ ছিল, কিন্তু রাত ৯টার দিকে হঠাৎ শ্বাস বন্ধ করে দেয় এবং কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে তার মৃত্যু হয়।
তবে পরিবারের সদস্যদের দাবি সম্পূর্ণ ভিন্ন। শিশুটির স্বজন আসিফ হাসানের ভাষ্য অনুযায়ী—মৃত্যুর দিন দুপুর পর্যন্ত শিশুটির শারীরিক অবস্থা স্বাভাবিক ছিল। সন্ধ্যার দিকে তাকে খাওয়ানোর চেষ্টা করার সময় শিশুটির শরীর ধীরে ধীরে নীল বর্ণ ধারণ করতে শুরু করে। এরপর পরিবারকে জানানো হয়, শিশুটিকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া প্রয়োজন।
পরিবারের অভিযোগ ও ফেসবুক লাইভ
শিশুটির মৃত্যুর পর রোববার মধ্যরাতে তার স্বজন আসিফ হাসান ফেসবুক লাইভে এসে হাসপাতালের বিরুদ্ধে চিকিৎসায় অবহেলার গুরুতর অভিযোগ করেন। এই লাইভ ভিডিওটি দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
আসিফ হাসান অভিযোগ করেন—
- মৃত্যুর দিন বিকেল পর্যন্ত শিশুটি স্বাভাবিক ছিল
- সন্ধ্যায় খাবার খাওয়ানোর সময় শিশুটির শরীর নীল হয়ে আসতে থাকে
- শিশুটিকে দেখতে চাইলেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অনুমতি দেয়নি
- লাইভে আসার পর হাসপাতালের ভেতরে একজন চিকিৎসকও ছিলেন না, শুধু একজন আয়া ও একজন নার্স ছিলেন
- চিকিৎসার নামে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দুই লাখ টাকার বেশি বিল করেছে
শিশুটির মা সুমাইয়া রহমান বলেন—"ওর (আয়ান) শরীর শক্ত হয়ে গেছে। পেট ফুলে গেছে, সারা শরীর নীল ছোপ ছোপ।" তিনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে সঠিক চিকিৎসা না দেওয়ার অভিযোগ করেন।
🔴 গুরুত্বপূর্ণ: শিশুটির স্বজনদের অভিযোগ, পিআইসিইউতে শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কোনো চিকিৎসককে খুঁজে পাওয়া যায়নি। পাশের ডাক্তার রুম, এনআইসিইউ—কোথাও কোনো চিকিৎসক উপস্থিত ছিলেন না।
🔗 প্রাসঙ্গিক আর্টিকেল
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পরিবারের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. নাজমুল হক সাংবাদিকদের বলেন—"শিশুটির হঠাৎ কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হয়। একপর্যায়ে তার শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ হয়ে যায়। পরদিনই শিশুটিকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল।"
হাসপাতালের কনসালট্যান্ট ডা. মো. আতিকুল ইসলাম জানান—রাতে তাকে হাসপাতাল থেকে জানানো হয়েছিল, তবে হাসপাতাল থেকে বলা হয়েছিল "সিরিয়াস কিছু না"।
পদ্মা জেনারেল হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম অনিক দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেছেন—"তদন্তের পর অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তদন্ত ও প্রাথমিক ধারণা
শিশুটির মৃত্যুর ঘটনায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর তদন্ত শুরু করেছে। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) জাহিদ রায়হান পদ্মা জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শন করেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী—শিশু আয়ান আব্দুল্লাহর মৃত্যু জন্মগত ত্রুটি ও শারীরিক নানা জটিলতার কারণে হয়েছে। তবে চিকিৎসায় কোনো ধরনের অসংগতি বা অবহেলা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত অব্যাহত থাকবে। তদন্তে অবহেলা বা অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
| পক্ষ | বক্তব্য |
|---|---|
| পরিবার | চিকিৎসকের অবহেলা ও অনুপস্থিতিতে মৃত্যু হয়েছে |
| হাসপাতাল | হঠাৎ কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে মৃত্যু হয়েছে, অবহেলা হয়নি |
| স্বাস্থ্য অধিদপ্তর | প্রাথমিকভাবে জন্মগত ত্রুটি ও জটিলতাকে কারণ মনে করা হচ্ছে, তদন্ত চলছে |
প্রেক্ষাপট: বেসরকারি হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যবস্থা
এই ঘটনা বাংলাদেশের বেসরকারি হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যবস্থা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন—রাতে জরুরি অবস্থায় চিকিৎসক অনুপস্থিত থাকার অভিযোগ নতুন নয়। অনেক বেসরকারি হাসপাতালে রাতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় রোগীরা ঝুঁকিতে পড়েন।
এছাড়া হাসপাতালে ভর্তি রোগীর মৃত্যু হলে পরিবারকে জানানোর প্রক্রিয়া, মৃতদেহ দেখার অনুমতি এবং বিল সংক্রান্ত বিষয়েও অভিযোগ উঠেছে। এসব বিষয়ে স্পষ্ট নীতিমালা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি।
সচরাচর জিজ্ঞাস্য
ঘটনাটি কোথায় এবং কখন ঘটেছে?
রাজধানীর বীর উত্তম সি আর দত্ত রোডের পদ্মা জেনারেল হাসপাতালে রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টার দিকে ৯ মাস বয়সী শিশু আয়ান আব্দুল্লাহর মৃত্যু হয়।
পরিবারের অভিযোগ কী?
শিশুটির স্বজনদের অভিযোগ—শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে পিআইসিইউতে কোনো চিকিৎসক পাওয়া যায়নি। পাশের ডাক্তার রুম, এনআইসিইউ—কোথাও চিকিৎসক উপস্থিত ছিলেন না। এছাড়া শিশুটিকে দেখতে দেয়নি এবং দুই লাখ টাকার বেশি বিল করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
হাসপাতাল কী বলছে?
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে—শিশুটি হঠাৎ কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। অবহেলার অভিযোগ তারা অস্বীকার করেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কী বলছে?
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রাথমিক ধারণা—শিশুটির মৃত্যু জন্মগত ত্রুটি ও শারীরিক নানা জটিলতার কারণে হয়েছে। তবে চিকিৎসায় অবহেলা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত চলছে।
তদন্ত কে পরিচালনা করছে?
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) জাহিদ রায়হান হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন এবং তদন্ত কমিটি কাজ করছে।
লেখক পরিচিতি
বাংলা গাইড ২৪ — স্বাস্থ্য, প্রযুক্তি ও সাধারণ জ্ঞান বিষয়ে ১০ বছরের অভিজ্ঞ লেখক দল। আমরা স্বাস্থ্য বিষয়ক কন্টেন্টে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, WHO, CDC-এর মতো প্রাথমিক সূত্র ব্যবহার করি। লেখক সম্পর্কে আরও জানুন →
