📱 এলজি ফোন কি ফিরে আসছে? ২০২৬ সালের সর্বশেষ খবর ও পুরনো মডেলের রিভিউ
প্রকাশ: এপ্রিল ২১, ২০২৬ | আপডেট: এপ্রিল ২১, ২০২৬ | ইমেইল: info@banglaguide24.com
২০২১ সালে যখন এলজি মোবাইল ব্যবসা থেকে সরে যাওয়ার ঘোষণা দেয়, তখন অনেক ভক্তের মন ভেঙে গিয়েছিল। এলজির উদ্ভাবনী ডিজাইন, অসাধারণ অডিও কোয়ালিটি এবং ডুয়াল স্ক্রিন ফিচার ফোনপ্রেমীদের কাছে অনন্য ছিল। কিন্তু ২০২৬ সালে এসে নানা সংকেত ইঙ্গিত দিচ্ছে – এলজি হয়তো আবার ফিরতে পারে! আজকের এই ব্লগে আমরা জানবো এলজি ফোন ফিরে আসার খবর কতটা সত্যি, বাজারে আবার এলে কী কী চমক আনতে পারে এবং এলজির সেই কালজয়ী পুরনো মডেলগুলোর রিভিউ যা আজও মনে পড়ে।
📖 এই গাইডে যা যা থাকছে:
- 📰 ২০২৬ সালের সর্বশেষ খবর: এলজি কি সত্যিই ফিরছে?
- ✨ ফিরলে কী কী চমক আনতে পারে এলজি?
- 📱 LG V60 ThinQ 5G – এখনো কেনার মতো?
- 📱 LG G8X ThinQ – ডুয়াল স্ক্রিনের জনক
- 📱 LG Velvet – ডিজাইনের ভিন্নতা
- 📱 LG Wing – স্বিভেল ডিজাইনের অনন্য ফোন
- 📊 জনপ্রিয় এলজি মডেলের তুলনা (টেবিলসহ)
- 💰 কেন এখনো এলজি ফোন কেনা উচিত?
- ❓ সচরাচর জিজ্ঞাসা
এলজি মোবাইল ব্যবসা বন্ধ করে
ফিরে আসার সম্ভাব্য সময়
LG V60-এর ব্যাটারি (এখনো চমৎকার)
📰 ২০২৬ সালের সর্বশেষ খবর: এলজি কি সত্যিই ফিরছে?
এলজি ২০২১ সালে মোবাইল ফোন ব্যবসা থেকে সরে দাঁড়ালেও, তারা পুরোপুরি দরজা বন্ধ করে দেয়নি। এলজি মোবাইল ডিভিশনের পেটেন্ট এবং প্রযুক্তি এখনো সক্রিয় রয়েছে। ২০২৫ সালের শেষ দিকে এবং ২০২৬ সালের শুরুর দিকে বেশ কয়েকটি ইঙ্গিত পাওয়া গেছে:
- ট্রেডমার্ক পুনর্জীবন: এলজি সম্প্রতি বেশ কয়েকটি ক্লাসিক মডেলের নাম (যেমন LG V60, LG Velvet) ট্রেডমার্ক পুনরায় নিবন্ধন করেছে। এটি নতুন ফোনের ইঙ্গিত দিতে পারে।
- রোলেবল ফোনের সম্ভাবনা: এলজি রোলেবল ফোন নিয়ে কাজ করছিল, যা বন্ধ হওয়ার আগ পর্যন্ত প্রোটোটাইপ পর্যায়ে ছিল। শোনা যাচ্ছে, এলজি এই প্রযুক্তি নিয়ে আবার কাজ শুরু করতে পারে।
- সাব-ব্র্যান্ড: এলজি একটি নতুন সাব-ব্র্যান্ড নিয়ে কাজ করছে, যা মূল এলজি ব্র্যান্ডের চেয়ে ভিন্ন নামে বাজারে আসতে পারে। এটি মূলত প্রিমিয়াম সেগমেন্টকে টার্গেট করছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০২৬ সালের শেষের দিকে বা ২০২৭ সালের শুরুতে এলজি একটি নতুন ফোন নিয়ে আনুষ্ঠানিক প্রত্যাবর্তন করতে পারে. তবে এটি পুরনো ভলিউমের মতো হবে না; বরং এটি একটি নির্দিষ্ট প্রিমিয়াম মার্কেটকে টার্গেট করবে।
✨ ফিরলে কী কী চমক আনতে পারে এলজি?
- এক্সপেরিমেন্টাল ডিজাইন: এলজি সবসময় ডিজাইন নিয়ে এক্সপেরিমেন্ট করতে পছন্দ করত। রোলেবল ফোন বা ডুয়াল স্ক্রিন ফোন আবার আসতে পারে।
- ক্যামেরা ইনোভেশন: এলজি ভি৬০-এর মতো ডুয়াল স্ক্রিন কেস নিয়ে কিছু আসতে পারে। এছাড়া অ্যাপলের সাথে প্রতিযোগিতায় নামতে পারে আলাদা ক্যামেরা সেন্সর নিয়ে।
- অডিও কোয়ালিটি: এলজির কোয়াড ডিএসি (Hi-Fi DAC) এর জন্য বিখ্যাত ছিল। ফেরার পথে অডিওফাইলদের জন্য বিশেষ ফিচার আনার সম্ভাবনা রয়েছে।
- সফটওয়্যার আপডেট নীতি: এলজি যদি প্রত্যাবর্তন করে, তবে সফটওয়্যার আপডেট নীতিতে অনেক পরিবর্তন আনতে পারে। গুগল পিক্সেল বা স্যামসাংয়ের মতো ৪-৫ বছরের আপডেট গ্যারান্টি দিতে পারে।
📱 LG V60 ThinQ 5G – এখনো কেনার মতো?
রিলিজ: ২০২০ | চিপসেট: Snapdragon 865 | ডিসপ্লে: 6.8″ OLED | ব্যাটারি: 5000mAh
এলজির শেষ ফ্ল্যাগশিপগুলোর একটি, যা আজও অনেকের হাতে দেখা যায়। ভালো দিক: ৫০০০ এমএএইচ ব্যাটারি দারুণ ব্যাকআপ দেয়। ডুয়াল স্ক্রিন কেস একটি অনন্য অভিজ্ঞতা। কোয়াড ডিএসি (হাই-ফাই ডিএসি) অডিও কোয়ালিটি অসাধারণ। মন্দ দিক: ৬০Hz রিফ্রেশ রেট (আধুনিক মান অনুযায়ী কম)। ভারী ওজন।
বাংলাদেশে বর্তমান দাম (সেকেন্ডহ্যান্ড): ১৫,০০০ - ২৫,০০০ টাকা (কন্ডিশন ও আনুষঙ্গিক জিনিসের ওপর নির্ভর করে)।
📱 LG G8X ThinQ – ডুয়াল স্ক্রিনের জনক
রিলিজ: ২০১৯ | চিপসেট: Snapdragon 855 | ডিসপ্লে: 6.4″ OLED | ব্যাটারি: 4000mAh
ভি সিরিজের মত ডুয়াল স্ক্রিন ফিচার নিয়ে আসে। ক্লাসিক এলজি ডিজাইন এখনো অনেকের পছন্দ। ভালো দিক: ডুয়াল স্ক্রিন মাল্টিটাস্কিংয়ের জন্য দারুণ। আইপি৬৮ রেটিং (ধুলো ও পানি প্রতিরোধী)। মন্দ দিক: ক্যামেরা পারফরম্যান্স মাঝারি। ওয়্যারলেস চার্জিং নেই।
বাংলাদেশে বর্তমান দাম (সেকেন্ডহ্যান্ড): ৮,০০০ - ১২,০০০ টাকা।
📱 LG Velvet – ডিজাইনের ভিন্নতা
রিলিজ: ২০২০ | চিপসেট: Snapdragon 765G / Dimensity 1000C | ডিসপ্লে: 6.8″ POLED | ব্যাটারি: 4300mAh
ভালো দিক: চমৎকার ডিজাইন ও হাতে ধরার অনুভূতি। ডুয়াল স্ক্রিন কেস সাপোর্ট। মন্দ দিক: মিডরেঞ্জ প্রসেসর, তাই হেভি গেমিংয়ের জন্য নয়।
বাংলাদেশে বর্তমান দাম (সেকেন্ডহ্যান্ড): ১০,০০০ - ১৫,০০০ টাকা।
📱 LG Wing – স্বিভেল ডিজাইনের অনন্য ফোন
রিলিজ: ২০২০ | চিপসেট: Snapdragon 765G | ডিসপ্লে: 6.8″ POLED + 3.9″ Secondary | ব্যাটারি: 4000mAh
স্বিভেল ডিজাইনের ফোন, যা আজও অনন্য। ভালো দিক: টি-ডিসপ্লে (স্বিভেল) ডিজাইন একেবারেই ভিন্ন। মাল্টিটাস্কিংয়ে নতুন দিগন্ত। মন্দ দিক: প্রসেসর ফ্ল্যাগশিপ লেভেলের না। সফটওয়্যার আপডেট এখন আর আসে না।
বাংলাদেশে বর্তমান দাম (সেকেন্ডহ্যান্ড): ১৫,০০০ - ২২,০০০ টাকা।
📊 জনপ্রিয় এলজি মডেলের তুলনা (স্পেসিফিকেশন ও বর্তমান দাম)
| মডেল | রিলিজ বছর | প্রসেসর | ডিসপ্লে | ব্যাটারি (mAh) | বর্তমান দাম (সেকেন্ডহ্যান্ড) |
|---|---|---|---|---|---|
| LG V60 ThinQ 5G | ২০২০ | Snapdragon 865 | ৬.৮″ OLED | ৫০০০ | ১৫,০০০-২৫,০০০ টাকা |
| LG G8X ThinQ | ২০১৯ | Snapdragon 855 | ৬.৪″ OLED | ৪০০০ | ৮,০০০-১২,০০০ টাকা |
| LG Velvet | ২০২০ | Snapdragon 765G | ৬.৮″ POLED | ৪৩০০ | ১০,০০০-১৫,০০০ টাকা |
| LG V50 ThinQ 5G | ২০১৯ | Snapdragon 855 | ৬.৪″ OLED | ৪০০০ | ৭,০০০-১২,০০০ টাকা |
| LG Wing | ২০২০ | Snapdragon 765G | ৬.৮″ + ৩.৯″ | ৪০০০ | ১৫,০০০-২২,০০০ টাকা |
| LG G7 ThinQ | ২০১৮ | Snapdragon 845 | ৬.১″ LCD | ৩০০০ | ৫,০০০-৮,০০০ টাকা |
💰 কেন এখনো এলজি ফোন কেনা উচিত? (সেকেন্ডহ্যান্ড)
- অডিও কোয়ালিটি: এলজির কোয়াড ডিএসি প্রযুক্তি আজও অনেক ফ্ল্যাগশিপ ফোনে নেই। অডিওফাইলদের জন্য এটি এখনো সেরা পছন্দ।
- ডিজাইন ও বিল্ড কোয়ালিটি: এলজি ফোনের ডিজাইন ও বিল্ড কোয়ালিটি অনেকটাই প্রিমিয়াম ছিল। এলজি ভি৬০, এলজি জি৮এক্স, এলজি ভেলভেট – এখনো হাতে নিলে সেটা বোঝা যায়।
- বাজেট ফ্রেন্ডলি: সেকেন্ডহ্যান্ড মার্কেটে এই ফোনগুলো এখন সাশ্রয়ী মূল্যে পাওয়া যায়। ১০-২০ হাজার টাকায় একটি প্রিমিয়াম এক্সপেরিয়েন্স নেওয়া যায়।
- নস্টালজিয়া ও ইউনিকনেস: আপনি যদি সাধারণ ফোনের বাইরে কিছু চান, তাহলে এলজি ভি৬০ বা এলজি উইং এখনো আলাদা স্টেটাস দেয়।
• ব্যাটারি হেলথ চেক করুন: LG V60-এর মতো পুরনো ফোনে ব্যাটারি ডিগ্রেড হয়ে থাকতে পারে। AccuBattery অ্যাপ দিয়ে চেক করুন।
• ডিসপ্লেতে বার্ন-ইন আছে কিনা দেখুন: সাদা স্ক্রিনে নিয়ে লাল, সবুজ, নীল রঙে পরীক্ষা করুন।
• ডুয়াল স্ক্রিন কেস (যদি থাকে) পরীক্ষা করুন: কেসের টাচ ও কানেক্টিভিটি ঠিক আছে কিনা দেখুন।
• কোয়াড ডিএসি কাজ করছে কি না: হাই-ইম্পিডেন্স হেডফোন দিয়ে পরীক্ষা করুন।
• সফটওয়্যার আপডেট: এলজি আর আপডেট দেয় না, তাই কাস্টম রম (LineageOS) চালাতে চাইলে আনলক করা বুটলোডার আছে কিনা জানুন।
banglaguide24-এর পরামর্শ: ২০২৬ সালে সেকেন্ডহ্যান্ড LG V60 কেনার আগে ভালো করে পরীক্ষা করে নিন। অডিও আর ব্যাটারির জন্য এখনো দারুণ।
❓ এলজি ফোন নিয়ে সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)
উত্তর: বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০২৬ সালের শেষের দিকে বা ২০২৭ সালের শুরুর দিকে এলজি একটি নতুন ফোন নিয়ে আনুষ্ঠানিক প্রত্যাবর্তন করতে পারে।
উত্তর: এলজি আনুষ্ঠানিকভাবে মোবাইল ফোন ব্যবসা বন্ধ করে দিয়েছে, ফলে নতুন অ্যান্ড্রয়েড ভার্সন বা সিকিউরিটি আপডেট আর আসে না। তবে কাস্টম রম (যেমন LineageOS) ব্যবহার করে আপডেট করা যেতে পারে।
উত্তর: ব্যাটারি হেলথ, ডিসপ্লেতে কোনো বার্ন-ইন বা ডেড পিক্সেল আছে কিনা, ক্যামেরা ও স্পিকার ঠিকমতো কাজ করছে কিনা, এবং ডুয়াল স্ক্রিন কেস (যদি থাকে) ঠিকমতো কাজ করছে কিনা – এসব বিষয় খেয়াল রাখতে হবে।
উত্তর: আপনি যদি অডিও কোয়ালিটি, ব্যাটারি লাইফ এবং সেকেন্ডহ্যান্ড বাজেটের মধ্যে থাকেন, তাহলে এলজি ভি৬০ এখনো একটি ভালো পছন্দ। তবে গেমিং বা ফটোগ্রাফির জন্য আধুনিক ফোন ভালো।
📌 banglaguide24-এর শেষ কথা
এলজি ফোন ফিরছে কি না, সেটা সময়ই বলবে। তবে এলজির পুরনো মডেলগুলো আজও অনেকের কাছে স্মৃতি। এলজি ভি৬০, এলজি জি৮এক্স, এলজি উইং – এগুলো শুধু ফোন ছিল না, ছিল একেকটি আর্ট পিস। ২০২৬ সালে এলজি যদি আবার ফিরে আসে, তবে সেটি হবে প্রযুক্তি বিশ্বের জন্য একটি বড় ঘটনা। ততদিন পর্যন্ত পুরনো এলজি ফোনের স্বাদ নিতে পারেন সেকেন্ডহ্যান্ড মার্কেট থেকে। banglaguide24-এর পক্ষ থেকে শুভকামনা।
আরও পড়ুন: গেস্ট পোস্ট গাইডলাইন - Bangla Guide | ফোন রিভিউ | ক্রয় গাইড